Saturday, October 31, 2015

ভয়াবহ গুনাহ “শির্ক”

বিসমিল্লাহীর রহমানির রহীম
ভয়াবহ গুনাহ “শির্ক”
                                      --------আব্দুল্লাহ


প্রথমেই আলোচনা শুনার আদব ও কুরআন মানার গুরুত্বঃ- ৭:২০৪ + ৩৯:১৮ + ৭:৩ + ২:৩৮-৩৯ #

এবং পূবের আলোচনার ধারাবাহীকতা রক্ষা করা এবং আজকের বিষয়ের সাথে যোগসূত্র স্থাপন করতে হবে।  এবং আজকে আলোচনার বিষয় কি ?
 
এক জন মানুষের জান্নাতে যাবার জন্য যেই যোগ্যতা গুলি থাকতে হবে তার মধ্যে প্রধান যোগ্যতা দুটি - ২:৮২ +৮৫:১১ ইত্যাদি এই রকম বহু আয়াত রয়েছে। অর্থাৎ (ইমান + আমাল = জান্নাত) এখানে প্রথম শর্তটি হচ্ছে  ইমান আর দ্বিতীয় শর্তটি  হচ্ছে আমাল ( সলাহ,সিয়াম,হাজ্জ,যাকাত ইত্যাদি) + যত নবী রাসূলের আগমন ঘটেছে  মানব জাতীর জন্য তারা সর্ব প্রথমেই ইমানের দাওয়াত দিয়াছে, কারন এই ইমান এতই গুরুত্ত পূর্ণ যে, আমাদের নবীর সা: এর নবূয়তী হায়াত হচ্ছে ২৩ বছর, তিনি এই ২৩ বছরে ১২ বছর যেই বিষয়টির উপরে মেহনত করেছিলেন তা ছিল ইমানের। কেন এই ইমানের গুরুত্ত এত বেশি? এর উত্তর হচ্ছে সমগ্র আমাল নির্ভর করে এই ইমানের উপর, যেমন অংকের এক (১) ও শূণ্য ০০০ এর মত। যেমনী ভাবে হাজার হাজার শূণ্য এক বিহীন মূল্যহীন ঠিক তেমনী ভাবে ইমান বিহীন শত শত আমালও মূল্যহীন। ইমান দার ব্যাক্তির যত বেশি আমাল থাকবে সেই অনুপাতে তত বেশি মর্যাদা ৪৬:১৯ + কিন্তু আমল কবুলের পূর্ব  শর্ত তাকে ইমানদার হতে হবে। এই ইমানদার হওয়াটা কোন বংশ গত বিষয় নয় যে, কোন মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করলেই সে ইমানদার হয়ে যাবে........। বা কেই দ্বাবি করলেই ইমানদার হয়ে যায় না। ২:৮ + এই ইমান যেমনি ভাবে আনা হয় ঠিক তেমনী ভাবে আবার ইহা নষ্টও হয়ে যায় + আমাদের সবাই জানে কি করলে ওযু, সিয়াম, সলাত ইত্যাদি ন্ষ্ট হয়ে যায়, কিšতু অতি দঃখ্যের সাথে বলতে হয় অধিকাংশ মানুষই জানে না
how to break  Eman  কিভাবে তার ইমান ভেঙ্গে যায়। মনে রাখতে হবে যদি কেই জান্নাতে যেতে চায় তার অবশ্যই ইমান থাকতে হবে। আর এই ইমান যত গুলি কারনে নষ্ট হয়ে যায় তার প্রধান কারন হচ্ছে একটি ভয়াবহ গুনাহ “শির্ক”। 
 
# এই শির্ক করলে কেই আর ইমানদার থাকেনা। সে যতই আল্লাহতে বিশ্বাসী হোকনা কেন। উদাহারন (সাহাবা রা: ও আবুজাহেলের ইমান) + ৬:৮২ + এই কারনেই আল্লাহ শির্ক করতে নিষেধ করেছেন ৪:৩৬ + হা: নবী সা: ও একইভাবে উনার সাহাবীদেরকেও নিষেধ করেছেন + হা মুয়াজ রা: + কারন হচ্ছে ইহা সব চাইতে বড় গুনাহ ৩১:১৩ । 
 
# ক্ষমা নেই ৪:৪৮ + হা: ক্ষমার দরজা (মুসনাদী আহমাদ)+ হা: নবী সা: বলেন আল্লাহ বলেন ‘হে বান্ধা তুমি যদি আমার সাথে পাহাড় পরিমান গুনাহ নিয়ে আমার সাথে সাক্ষাত্য কর আমি তোমার সাথে অনুরূপ ক্ষমা নিয়ে সাক্ষাত্য করব, (মিশকাত)।    
  
# ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়: :১১৬ + ৪:১৩৬ + ১:৭ + হা: আটার খামির থেকে যেভাবে চুল বের করা হয়......
( নাসাই বা ইবনে মাজাহ) + ২২:৩১। 
 
  #  মুশরিকরা হচ্ছে নাপাক, আর জান্নাত তাদের  জন্য নয় আর যারা শির্ক করে, ৯:২৮ + ৯১: ৯-১০ + ৯৮: ৬ ।    
 
#  জান্নাত হারাম হয়ে যায়: ৪: ৩৬ যেই জান্নাতের জন্য এত আমল করছি সেই জান্নাত: ৫:৭২ + হা:আরবী..... যদি কেই শির্ক করে মৃত্যু বরন করে হবে সে জাহান্নামী (বুখারী) ।      
 
 #  আমল নষ্ট হয়ে যাবে: ৬:৮৩-৮৮ + উদাহারন পরীক্ষার খাতায় + ৩৯:৬৫ + এই আয়াতের দিকে লক্ষ করুন এবং ভাবুন আমাদের অবস্খান কোথায়! + আজকে সবখানেই শুধু আমলের বয়ান + কিন্তু যেই গুনাহটির দ্বরা সব আমল বাতিল হয়ে যাবে তার বেপারে জাতি আজ বরই উদাশীন + কেয়ামতের দিন আমল নামাকে দুলিকনায় পরিনত করে  দিবেন ২৫:২৩ +       
 
 # হাসরের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা + হা : আল্লাহ বান্ধাকে ডেকে বলবেন আজ যদি এই পৃথিবী বর্তী সম্পদ তোমাকে দিয়ে দেয়া হয় তমি কি এই জাহান্নাম থেকে বাঁচতে চাও......(মিশকাত) + সাহাবাগণ রা: প্রশ্ন করলেন হে আল্লাহর রাসূল কেয়ামতের দিন কে সব চাইতে বেশি খুশি বা লাভ বান হবে আপনার সুপারিশ দ্বারা,? উত্তর যে শির্ক মুক্ত মৃত্যু বরণ করেছে। 
 
# জানাজা বা দুয়া’ হারাম: ৯:১১৩ + হা: যদি কোন ব্যক্তির জানাজায় এমন ৪০ জন ব্যক্তি জানাজার সলাত যারা..(মিশকাত)        # বিবাহ হারাম ২: ২২১ + ৬০: ১০ ।
আমাদের অনেকেই মনে করে যে, আমরাতো শির্ক করিনা বা আমাদের দ্বারা শির্কের  কোন গুনাহ হবেনা এটা কাফের বা অন্য ধর্মে লোকদেও জন্য। তার জন্য বলি এই কুরআন কাদের পঠ্য বই? যদি ইহা আমাদের জন্য হয়ে থাকে তবে কেন এর মধ্যে শির্কের এত ভয়াবহতার আলোচনা করা হল?
 
     সর্ব শেষে দুটি হাদীস বলতে চাই,যে শির্ক মুক্ত থাকার ব্যপারে ১) হা: যদি সে চুরি করে, যেনা করে , মদও খায়, (বুখারী) + মুয়াজ রা: বান্ধা ও আল্লাহর হাক্ক কি (বু)
 
    এটাই হচ্ছে জান্নাতে যাওয়ার নূন্য তম যোগ্যতা । যদি এই আলোচনা থেকে কারও শির্ক সম্পর্কে জানার আগ্রহ তৈরী হয় হবে তার প্রতি অনুরোধ থাকবে শির্ক ( আরবাব , আলিহা ,আংদাদ , তাগুদ)
 
    হাসরের মাঠে মানুষ আফসোচ করবে হা! যদি শুনতাম ও বিবেক প্রয়োগ করতাম! ৬৭: ৭-১২ + ২৩:১০৫-১০৮।
 
    শেষে আহ্বান ও দুয়া : অতএব সম্মানিত পাঠক মহোদয়ের প্রতি বিনীত আবেদন যে, এই ভয়াবহ গুনাহ থেকে বাচার চেষ্টা করুন। আর এই গুনাহ থেকে বাচতে হলে উপরোক্ত চার প্রকার শিরক অর্থাৎ(আরবার, আলিহা, আংদাদ, তাগুত) সম্পর্কে জানতে হবে। আল্লাহ আমাদের তৌফিক দান করুন। আমিন।