Tuesday, September 29, 2015

হুজুর ছেলের কাছে বিয়ে বসব না

এখন অধিকাংশ শিক্ষিত কিংবা অশিক্ষিক মেয়েদের মুখেই এধরণের কথা শোনা যাচ্ছে। এর রহস্যটা কী? এর কারণ হচ্ছে বর্তমান কালের মেয়েরা বেড়ে উঠছে ছেলেদের সাথে অবাধ মেলামেশার মধ্যে। অর্থাৎ তাদের চলাফেরা, পড়াশুনা, আচার-অনুষ্ঠান সর্বক্ষেত্রেই তারা ছেলেদের সংস্পর্শে এসে করে থাকে। তারা সবসময় আনন্দ-ফুর্তি, দুষ্টুমি করে তাদের সময় কাটাচ্ছে। এমতাবস্থায় তারা ‍যদি কোন হুজুর ছেলেকে বিয়ে করে তবে তাদের এই সকল উশৃঙ্খলা থেমে যাবে, অর্থাৎ তাদের এই ধরণের জীবনধারা পরিবর্তণ হয়ে যাবে। যেটা তারা কল্পনাই করতে পারে না। কারণ হুজুরদের তারা ভয় করে। হুজুর-স্বামী বিয়ের পর তাকে বলবে বোরকা পড়, হাতমোজা-পামোজা ব্যবহার কর। মার্কেটে যাওয়া যাবেনা। পরপুরুষের সাথে বাক্যালাপ করা যাবে না। পাতলা ওড়না ব্যবহার করা যাবে না ইত্যাদি ইত্যাদি বলে তার কান ঝালা-পালা করে দেবে। এটাই হল বর্তমান অধিকাংশ মেয়েদের ধারণা এবং বিশ্বাস একজন হুজুর ছেলে সম্পর্কে। এবার আসুন গোমর ফাঁস করি কেন মেয়েরা হুজুর ছেলে পছন্দ করেনা। মূলত যারা হুজুর ছেলেদের পছন্দ করেনা তারা মূলত ইসলামের প্রকৃত অনুসারী না। তারা সালাত বা নামাজ আদায় করেনা। রমজানে রোজা রাখেনা, রাখলেও সবাই রাখে তাই সেও রাখে, পর্দা করেনা, নাটক, সিনেমা ইত্যাদি বিভিন্ন অশ্লীলতা ইত্যাদির সাথে তারা জড়িত থাকে। তারা স্বাধীনতার নামে মূলত বিভিন্ন ইসলাম বিরোধী কাজে জড়িত থাকে। এর ফল কী হয়? এর ফল খুবই মারাত্মক। ধরা যাক, ঐ মেয়ের যার সাথে বিয়ে হয় সেও যদি তার মতই হয় (অর্থাৎ বেনামাজী) তাহলে সাংসারিক জীবনে তারা কতটুকু সুখী হয়?পরিপূর্ণ ‍ইমান না থাকার কারণে সেই মেয়েটি বিভিন্ন ছেলেদের সাথে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা, হাসি-তামাশা ইত্যাদি বিভিন্ন মন্দ কর্মে  জড়িত থাকে। সে যদি শিক্ষিত হয় বা স্টুডেন্ট হয়, তবে পড়াশুনার নামে যা ইচ্ছা তাই করে বেড়ায়। আর ওদিকে তার স্বামী বেচারা ইমানের ঘাটতির কারণে কর্মস্থলে বা উপযুক্ত যে কোন স্থানে অন্য নারীর সাথে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা, হাসি-তামাশা, ভ্রমন ইত্যাদির নামে নানা অশ্লীলতায় নিয়োজিত থাকে। এভাবে চলতে থাকলে কী হয়? একটা সময় পরে তাদের (স্বামী-স্ত্রীর) মধ্যে অবিশ্বাস, সন্দেহ দানা বাঁধে। ঝগড়া, মনোমালিন্য ইত্যাদি তাদের সংসারে আর সুখ ফিরিয়ে আনতে পারেনা। পরিনাম: “অসুখী জীবন”। তখন দুজনের চির স্বরণীয় বানী হয়: “তোমাকে বিয়ে করে জীবনে কিছুই পেলাম না”।
এবার আসুন হুজুর ছেলের বৃত্তান্ত তুলে ধরি। একজন হুজুর ছেলে ছাত্র জীবন থেকেই আল্লাহ ভীরু হন। তিনি তার দৃষ্টিকে হেফাজতে রাখেন। সিনেমা, নাটক দেখেননা। যাবতীয় অশ্লীলতা থেকে যতদূর সম্ভব দূরে থাকেন। উপার্জনের একটা ব্যবস্থা হলে তিনি একজন নামাযী, পর্দানশীল, তাকওয়াসম্পন্ন, অশ্লীলতা থেকে মুক্ত একজন মেয়ে খুঁজেন বিয়ে করার জন্য। সে রকম মেয়ে পেলে তিনে যৌতুক ছাড়াই বিয়ে করেন। তিনি মেয়েকে দেন-মোহর নগদ পরিশোধ করেন। সেই হুজুর ছেলে নিজের যত কামনা-বাসনা, কল্পনা-যল্পনা, হাসি-তামাশা, মজা ইত্যাদি সব কিছুই তার স্ত্রীর জন্য রক্ষণাবেক্ষন করেন। যতক্ষন বাইরে থাকেন তার সবটুকু আদর, ভালবাসা তার স্ত্রীর জন্য জমিয়ে রাখেন আর চিন্তা করেন কখন বাসায় ফিরে যাবেন। অপর দিকে তিনি যাকে বিয়ে করেছেন, তিনিও বাসায় বা অফিসে যেখানেই থাকুননা কেন তার আদর, ভালবাসা ইত্যাদি শুধুই তার স্বামীর জন্যই সংরক্ষণ করেন।এরকম অবস্থা যদি তৈরী হয় কোন সংসারে, তবে তাদের সংসারটা কতটা সুখের হতে পারে? যেখানে নেই কোন অবিশ্বাস, সন্দেহ, সংশয় সেখানে কতইনা সুখের পরিবেশ তৈরী হয়! আরেকটা কথা বলে রাখা ভাল, “হুজুর ছেলেরা তাদের স্ত্রীদের দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ মনে করে থাকেন। তাহলে বঝুন তারা তাদের স্ত্রীদের কতটা মূল্য দিয়ে থাকেন।
অতএব, যারা হুজুর ছেলেদের বিয়ে করতে চাননা তারা মনে করবেন না যে, এটা আপনাদের ক্রেডিট বরং হুজুর ছেলেরাই আপনাদের “খোসা বিহীন কলা, মানে ছোলা কলা” মনে করে থাকেন। যেগুলো মাগনা দিলেও কেও বাজার থেকে নিবে না। অতএব, অহংকার ছাড়ুন ইসলাম পরিপূর্ণভাবে মানুন। বিয়ে করার জন্য পরিবারকে “উপযুক্ত” হুজুর ছেলে খুঁজতে বলুন।
পরিশিষ্ট-১: “হুজুর ছেলে” বলতে ইসলামের বিধি নিষেধ মেনে চলেন এমন “মুসলিম” ছেলেকে বুঝানো হয়েছে।শুধু মুখে কতগুলো ‘দাড়ি’ থাকলেই ভাল “মুসলিম” পুরুষ হওয়া যায় না।

আবুল বাশার
শিক্ষক
টাঙ্গাইল রেসিডেনসিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ